সাভারে জামানত হারাচ্ছেন ২৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী

৮ জানুয়ারি, ২০২২ (বিবিনিউজ) :আশানুরূপ ভোট না পাওয়ায় সাভার উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এক প্রার্থীসহ ২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

৫ম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে লড়েছেন মোট ৫৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১০টি ইউনিয়নে ৫২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগ প্রার্থীসহ ২৭ জনই হারাচ্ছেন জামানত। তাদের মধ্যে উপজেলার বিরুলিয়া ও শিমুলিয়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস আরও জানায়, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মেশের আলী ৮৫৮ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। একই ইউনিয়নে আরও জামানত হারাচ্ছেন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিন কবিরাজ। তার প্রাপ্ত ভোট ১১৬টি।

আমিনবাজার ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা শফিকুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট ৪১৯। ভাকুর্তা ইউনিয়নে চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের নাছির উদ্দিন পেয়েছেন ৫৪ ভোট, মোটরসাইকেল প্রতীকের নুরুল আমিন ৭৯৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত মাহমুদুল হাসান এক হাজার ৫২৬ ও শহিদুল ইসলাম ৮৫ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন।

বনগাঁও ইউনিয়নে দুইজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত মোক্তার হোসেন ৪৩৪ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফ উদ্দিন পেয়েছেন দুই হাজার ৪৫৬ ভোট। সাভার সদর ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের মাহমুদ বিশ্বাস ৫৯০ ভোট পেয়েছেন। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

বিরুলিয়া ইউনিয়নে পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে উজির মাহমুদ ১৮৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত মাহমুদুল হাসান দুই হাজার ১৩৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসীন মন্ডল ১৮, গিয়াস উদ্দিন ৭৭৪, শাহীন মিয়া ৩৩৭ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়াও পাথালিয়া ইউনিয়নে তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী, আশুলিয়া ইউনিয়নে দুই প্রার্থী, ইয়ারপুর ইউনিয়নের দুইজন ও শিমুলিয়া ইউনিয়নে পাঁচ প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ফখর উদ্দিন শিকদার জানান, ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে পাঁচ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়। সেই জামানতের টাকা ফেরত পেতে হলে ওই ইউনিয়নের প্রদত্ত ভোটের আটভাগের একভাগ পেতে হয়। যেসব প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট পায়নি। তাদের জামানতই বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment